
বরিশাল খবর অনলাইন নিউজ : বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক, আধিপত্যবাদ-ফ্যাসিবাদ-স্বৈরতন্ত্র বিরোধী আপসহীন নেত্রী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাহাদাত বরণের খবরে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রেজিম মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত করে কারাগারে নিয়ে বিষপ্রয়োগের অনিবার্য পরিণতিতে জাতির মহান অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া শাহাদাত বরণ করেছেন। ফ্যাসিবাদ উত্তর জাতীয় পুনর্গঠন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সন্ধিক্ষণে তার অকাল বিদায়ে আমি গভীরভাবে শোকাহত, মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন।
খোমেনী ইহসান বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর শোককে সম্বল করে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে জোরদার করে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লড়াই এগিয়ে না নিলে জাতি গভীর সঙ্কটে নিপতিত হবে। তিনি ছিলেন আধিপত্যবাদ-ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল দলমতের মানুষের ঐক্যের মিলন বিন্দু। তার অনুপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল আচরণ না করলে পারষ্পরিক বিরোধ জাতীয় সংহতি বিনষ্টের কারণ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে জাতীয় নির্বাচন, ন্যায়বিচার, পুনর্গঠন ও সমঝোতার পথ বন্ধুর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক শোক বার্তায় খালেদা জিয়ার জীবনের কামিয়াবি ও অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মুসলমানদের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো হক ও ইনসাফের জন্য লড়াই করে আল্লাহর পথে শাহাদাতবরণ করা। খালেদা জিয়া জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি হকপথের একজন গুরত্বপূর্ণ শহীদ। বিশেষ করে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন থাকায় তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও ছোট ছেলে শহীদ আরাফাত রহমান কোকোর শাহাদাতবরণ ও বড় ছেলে তারেক রহমানের ১৭ বছরের নির্বাসনের পরও খালেদা জিয়া আধিপত্যবাদী ও ফ্যাসিবাদী জালিমদের কাছে আত্মসমর্পণ করেননি। বরং মিথ্যা-বানোয়াট মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে কারাবন্দি থাকার পরও তিনি বিশ্বের তৃতীয় জনববহুল মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে আজীবন আপসহীন ছিলেন।
খোমেনী ইহসান বলেন, খালেদা জিয়া মুসলিম উম্মাহর অন্যতম সফল রাজনীতিক ছিলেন। তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে মুসলিম নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে মুসলিম বিশ্বকে আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মসজিদভিত্তিক পাঠাগার গড়ে তুলে লাখ লাখ মানুষকে জ্ঞানের নুরে আলোকিত করতে তিনি ভূমিকা রাখেন। মুসলিম উম্মাহর শাসকদের মধ্যে তিনিই সবার আগে সন্ত্রাসবাদ দমনে সফল হন।
খোমেনী ইহসান আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তার স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে দীর্ঘ ৯ বছরের লড়াই গড়ে তুলে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দৃঢ় আপসহীন নেতৃত্বের লিগ্যাসি তৈরি হয়। তিনি সব সময় জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের তিনটি জাতীয় নির্বাচনে পাঁচটি করে পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তার জীবনের সর্বশেষ নির্বাচন ২০০৮ সালে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও সবগুলোতে বিজয়ী হন।
বেগম খালেদা জিয়ার শাহাদাতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান তার বড়পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ শোকসন্তপ্ত পরিবার ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি দেশবাসীকে খালেদা জিয়ার শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও সিইও: মামুনুর রশীদ নোমানী
বরিশাল খবর অফিস: সিএন্ডবি রোড, বরিশাল
ইমেইল: nomanibsl@gmail.com
মোবাইল: 01713799669 / 01712596354
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি
© বরিশাল খবর সর্বস্ব সংরক্ষিত