গোলাম মওলা:
: বাংলাদেশের
রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন জনপ্রিয় রাজনীতিকই নন, তিনি
ছিলেন দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একজন কেন্দ্রীয়
চরিত্র। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬—এই দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী
হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নেতৃত্বে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের
অর্থনীতির গতিপথে স্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। তার অর্থনৈতিক ভূমিকা মূল্যায়ন
করতে হলে কেবল প্রবৃদ্ধির সংখ্যা নয়, বরং সেই সময়ের বাস্তবতা, সীমাবদ্ধতা ও
ভবিষ্যতের ওপর প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে দেখতে হয়।
অর্থনীতিবিদদের
মতে, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপক, যিনি বিদ্যমান
কাঠামোর মধ্যে থেকে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি অর্থনীতিকে
বাজারমুখী পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন এবং বেসরকারি খাত ও রফতানিনির্ভর
উন্নয়নের ভিত্তি শক্ত করেছেন।
খালেদা জিয়ার হাত ধরেই বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সংস্কারের সূচনা
বাংলাদেশে
অর্থনৈতিক সংস্কারের রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রথমবারের মতো বেগম খালেদা জিয়ার
হাত ধরেই শুরু হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বাংলা
ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “আজ আমরা যে অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা বলছি, তার
সূচনা হয়েছিল মূলত বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালেই। অর্থনৈতিক সংস্কারের
রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুধাবন করেছিলেন এবং সেই সংস্কারের নেতৃত্ব
দিয়েছিলেন।”
ড.
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার তিনবার কাজ করার
সুযোগ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি তার নেতৃত্বগুণের তিনটি
গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য,
প্রথমত—বেগম খালেদা জিয়া অর্থনীতির জটিল ও কারিগরি বিষয় অত্যন্ত মনোযোগ
দিয়ে শুনতেন। কোনও নীতি বা কারিগরি ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হলে তিনি তা
গভীরভাবে আত্মস্থ করার চেষ্টা করতেন।”
দ্বিতীয়ত—তিনি
অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতেন। এসব প্রশ্নের মাধ্যমে
বিষয়গুলো আরও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করতেন। গুরুত্বপূর্ণ
জায়গাগুলো চিহ্নিত করে প্রশ্ন করার দক্ষতা তার মধ্যে স্পষ্টভাবে লক্ষ করা
যেত।
তৃতীয়ত—তিনি দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে
পারতেন। অর্থনীতিবিদদের দেওয়া কারিগরি ও নীতিগত পরামর্শকে রাজনৈতিক
দৃষ্টিভঙ্গিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে তার দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
ড.
দেবপ্রিয় আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব
পালন করেন এম. সাইফুর রহমান। একজন রাজনৈতিক নেতা ও একজন অর্থনীতিনির্ভর
নীতি প্রণেতার মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমন্বয় ছিল, তা ছিল দেখার মতো
এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।”
তিনি বলেন, “রাজনীতি ও অর্থনীতি যখন সমান্তরালভাবে চলে, তখন দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হয়। খালেদা জিয়ার সময়ে সেটিই দেখা গেছে।”
তিনি
উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলেই দেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল
গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ছিল বলিষ্ঠ, রফতানি ও রেমিট্যান্স
ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়।
ড.
দেবপ্রিয় বলেন, “ভ্যাট ব্যবস্থার প্রচলন, মুদ্রার বিনিময় হারে নমনীয়তা—এসব
বড় ধরনের সংস্কার রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া সম্ভব হতো না। রাজনীতি যদি
অর্থনৈতিক নীতির প্রতি প্রতারণামূলক হতো, তবে এই অর্জন সম্ভব ছিল না।”
তিনি
আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার সময়কাল রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিপূরক
সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার আচরণ ও
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন থেকে আগামী দিনের জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের শেখার
আছে।”
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “সিদ্ধান্ত
গ্রহণের ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি ও অর্থনীতির মধ্যে ভারসাম্য
রক্ষা করতেন। অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো তিনি
রাজনৈতিকভাবে মেনে নিতেন এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন দিতেন।”
তিনি
বলেন, “১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশ যখন নব গণতন্ত্রে ফিরে
আসে, তখন দেশের ভেতরে এক ধরনের অর্থনৈতিক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। ব্যক্তি
খাতের উত্থান ঘটে। সেই সময়েই সিপিডির মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানও বিকশিত হওয়ার
সুযোগ পায়।”
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি মনে করে,
প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন।
তার নেতৃত্বে মুক্তবাজার অর্থনীতির উদারীকরণ ত্বরান্বিত হয় এবং দেশের
অর্থনৈতিক কাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সমিতির
পক্ষ থেকে বলা হয়, “খালেদা জিয়ার সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ
পদক্ষেপ নিয়েছিল। খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা এবং মেয়েদের
জন্য উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সূচনা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে
এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এ উদ্যোগগুলো দেশের টেকসই অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
প্রয়াত
নেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং নারীর
ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশের
আর্থসামাজিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
বাংলাদেশের
শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের প্রতি খালেদা জিয়ার সরকারের ইতিবাচক
দৃষ্টিভঙ্গি ও সমর্থনও স্মরণযোগ্য। সমিতি মনে করে, তার এই উদ্যোগগুলো দেশের
মানবসম্পদ উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।”
গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের পর অর্থনীতির পুনর্গঠন
১৯৯১
সালে সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফেরার পর বেগম খালেদা
জিয়ার সরকার এমন এক অর্থনীতি হাতে পায়, যা ছিল স্থবির, বৈদেশিক
সহায়তানির্ভর এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দুর্বল। সে সময় তার সরকারের প্রধান
চ্যালেঞ্জ ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিকে স্বাভাবিক
ধারায় ফেরানো।
এই পর্যায়ে সরকার আন্তর্জাতিক
মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাজ করে কাঠামোগত সংস্কার
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখা
এবং বৈদেশিক সহায়তা পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থনীতি বড় কোনও গতি না
পেলেও একটি স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি হয়—যা পরবর্তী সময়ের প্রবৃদ্ধির জন্য
গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
২০০১-২০০৬: প্রবৃদ্ধির গতি ও বেসরকারি খাতের উত্থান
বেগম
খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে বেশি গতিশীল হয়ে ওঠে।
এই সময় জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৫ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে
অবস্থান করে, যা তখনকার বাস্তবতায় উল্লেখযোগ্য।
সরকারের
অর্থনৈতিক দর্শন ছিল মূলত বাজারমুখী ও বেসরকারি খাতনির্ভর। শিল্প, বাণিজ্য
ও রপ্তানি খাতে রাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ কমিয়ে উদ্যোক্তাবান্ধব পরিবেশ
তৈরির চেষ্টা করা হয়।
তৈরি পোশাক ও রফতানি-নির্ভর অর্থনীতির বিস্তার
এই
সময় তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের প্রধান রফতানি খাত হিসেবে আরও শক্ত
অবস্থান নেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের উপস্থিতি বাড়ে।
পোশাক খাতের পাশাপাশি চামড়া, কৃষিভিত্তিক শিল্প এবং হালকা প্রকৌশল খাতেও
বিনিয়োগ বাড়ে।
রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড)
সম্প্রসারণের ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে এবং কর্মসংস্থান
সৃষ্টি হয়। এ সময়ই বাংলাদেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে রফতানি-নির্ভর কাঠামোর
দিকে স্পষ্টভাবে এগোতে শুরু করে।
অবকাঠামো ও যোগাযোগ: অর্থনীতির নীরব চালিকাশক্তি
বেগম
খালেদা জিয়ার শাসনামলে যমুনা সেতুর পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবহার শুরু হয়, যা
দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করে। সড়ক
যোগাযোগ, গ্রামীণ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়।
যদিও
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল, তবুও এই সময়ের
অবকাঠামোগত উন্নয়ন পরবর্তী দশকের অর্থনৈতিক বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
রেমিট্যান্স ও দারিদ্র্য হ্রাসের ধারা
মধ্যপ্রাচ্যসহ
বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি শ্রমবাজার সম্প্রসারণের ফলে প্রবাসী আয়
ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। রেমিট্যান্স অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ
স্তম্ভে পরিণত হয়।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক
সংস্থার তথ্যমতে, এই সময় দারিদ্র্যের হার কমার একটি প্রবণতা দেখা যায়।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ প্রবাহ বাড়ে, যা ভোগ ও ছোট ব্যবসার সম্প্রসারণে
ভূমিকা রাখে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, তিনবারের সাবেক
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল বাংলাদেশের
অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে তিনি
অর্থনীতিকে বাজারমুখী করতে নীতিগত সংস্কার গ্রহণ করেন। বিশেষ করে ব্যাংকিং
ব্যবস্থা, বীমা খাত, পুঁজিবাজার এবং তৈরি পোশাক শিল্পে তার সরকারের
সিদ্ধান্তগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।
ব্যাংক খাতে সংস্কার ও বেসরকারি ব্যাংকিংয়ের প্রসার
১৯৯১
সালে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার সরকার ব্যাংকিং খাতে সংস্কার
কার্যক্রম জোরদার করে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংক
প্রতিষ্ঠার জন্য উৎসাহ প্রদান করা হয়। নতুন বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদনের
মাধ্যমে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায়, ফলে আর্থিক সেবার পরিধি বিস্তৃত হয়।
ব্যাংকিং খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, ঋণ বিতরণে শৃঙ্খলা আনা এবং উদ্যোক্তাদের
জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যা অর্থনীতিবিদদের মতে দেশের
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
বিমা খাতে বেসরকারি অংশগ্রহণ
খালেদা
জিয়ার শাসনামলে বীমা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ে। এর ফলে
জীবনবীমা ও সাধারণ বীমা খাতে নতুন কোম্পানি গড়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞদের মতে,
বীমা খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকসেবা উন্নত হয় এবং ঝুঁকি
ব্যবস্থাপনার সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতির স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে
সহায়ক।
পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ
১৯৯১-১৯৯৬
সালে শেয়ার বাজারকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের কার্যক্রম জোরদার করা হয় এবং বাজারে
তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ২০০১-২০০৬ সালের মধ্যে
বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হয়, যা সাধারণ
বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়।
তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যাপক বিকাশ
খালেদা
জিয়ার শাসনামলে তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান রফতানি খাতে পরিণত হয়।
রফতানিমুখী শিল্প হিসেবে পোশাক খাতকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়। শুল্ক ও
করছাড়, বন্ড সুবিধা এবং রফতানি প্রণোদনার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিকে
উৎসাহিত করা হয়। এর ফলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায় এবং লাখো মানুষের
কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়,
যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রফতানি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান
পোশাক
শিল্পের বিকাশের ফলে রফতানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে রফতানি অর্থ
দেশে আনার প্রক্রিয়া সহজ হয়।
অর্থনীতিবিদদের
মতে, খালেদা জিয়ার সময় ব্যাংক, বিমা এবং পুঁজিবাজারে বেসরকারি খাতের
অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়, যা অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে বাজারভিত্তিক কাঠামোর দিকে
এগিয়ে নিয়ে যায়।
সীমাবদ্ধতা
অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বেশ কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট ছিল।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও সুশাসনের ঘাটতি।